বড়দিগন্ত প্রতিবেদকঃ
অভাব-অনটনের কঠিন জীবন আর অসুস্থ শরীর—সব কিছু উপেক্ষা করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সুব্রত কুমার কুণ্ড। পরীক্ষার আগে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে বলেছিলেন, “আমি ফেল করবো মা।” কিন্তু আজ সে পরিবারের গর্ব, এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণা।
সুব্রত ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুদি গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সুধীর কুন্ডু একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার, মা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে সুব্রত দ্বিতীয়। সংসারে চরম অর্থকষ্ট, এমনকি ঘরে সাধারণ মোবাইল ফোনও নেই।
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে অংশ নেয়। পরীক্ষার আগে সে দীর্ঘদিন জ্বরে ভুগেছে, ছিল সর্দি-কাশি। তবুও মায়ের সাহস, বাবার অনুপ্রেরণায় সে পরীক্ষা দিয়েছে নিয়মিতভাবে।
ফলাফলে দেখা গেছে, সুব্রতের বিদ্যালয়ে পাসের হার মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ—৬৪ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২১ জন। সেই কঠিন বাস্তবতায়ও সুব্রত পেয়েছে সর্বোচ্চ গ্রেড—জিপিএ-৫।
তবে এই সাফল্যের পেছনে যে সংগ্রাম, তা ছিল নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আজ সুব্রতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত—কলেজে ভর্তি হওয়া, বই-খাতা কেনা, এমনকি কোচিং-এ পড়ার সুযোগ—সবকিছুই এখন প্রশ্নবিদ্ধ তার পরিবারের আর্থিক সংকটে।
সুব্রতের মা-বাবা বলেন, “ছেলেটা খুব কষ্ট করে এতদূর এসেছে। যদি কেউ তার পাশে দাঁড়াতেন, সে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত, দেশের জন্য কিছু করতে পারত।”
সুব্রতের এই সাফল্যে প্রশংসা জানিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনিছুর রহমান বালী। তিনি বলেন,
“সুব্রত জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাই। তার পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যেকোনো সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।”
তথ্যসূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি।

২৫.২৬°সে