ভারত সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দুস জল চুক্তি স্থগিত করার পর গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগি সম্পর্কিত চুক্তিতেও পুনর্বিবেচনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গঙ্গা নদী বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। এটি দেশের কৃষি, শিল্প এবং জনজীবনে অপরিসীম প্রভাব বিস্তার করে। তাই ভারতের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য জল নিরাপত্তা ও জলবণ্টন নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কী বলছে ভারত?
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে গঙ্গা চুক্তির কিছু ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন। এর ফলে নদীর উজানে ভারতের জল ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। তবে ভারত দাবি করেছে, বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য তাদের নেই, বরং উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়াঃ
বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপকে গভীর মনোযোগে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনি ফ্রেমওয়ার্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশে জলবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ
বাংলাদেশের জলসম্পদ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গঙ্গা পানি ভাগাভাগি চুক্তির পুনর্বিবেচনা হলে পানি সংকট এবং কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য আধুনিক জলসংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বিকল্প উৎসের বিকাশ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে।
পরবর্তী করণীয়ঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। দুই দেশের জনসাধারণের সুবিধার্থে সমঝোতামূলক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
-দৈনিক বড়দিগন্ত

১৬.৬৬°সে