অভিশাপ
লেখক: মোঃ রাসেল আহমেদ
কী ভয়ংকর!
কী নির্মম আজ এ পৃথিবী —
মানুষের মুখোশে ঘুরে বেড়ায়
অমানুষ একেকটি ছায়া,
যাদের পায়ের নিচে কুঁচকে মরে
ফুলের মতো শিশুরা।ময়না, সৌরভ, আসিয়া —
তাদের নাম যেন চিরকালের কান্না হয়ে বাজে।
একেকটি শিশু ছিল ঘরের প্রদীপ,
আজ তারা কেবল নিস্তব্ধ কবরে শুয়ে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ময়নার চোখে স্বপ্ন ছিল,
দেউসহিলার সৌরভ মায়ের বুকের ধন।
মাগুরার ছোট্ট আসিয়া —
অপরাধটা কী ছিল তার, বলো?পৃথিবী আজ এক নিষ্ঠুর খেলার মাঠ,
যেখানে রক্তই হলো একমাত্র উত্তরাধিকার।
সিলেটের ভোরে কেঁদে ওঠে বাতাস,
এক পিতৃছায়া হয় ভয়াল বিভীষিকা —
যে হাতে আদর ঝরার কথা ছিল,
সেই হাতে নেমে আসে হত্যার ছুরি!এ কেমন সমাজ?
কী পশুত্বের সীমা পেরিয়ে গেলাম আমরা!
একটি শিশুর কফিন যখন কাঁধে ওঠে,
সেই কাঁধে আর জাতি দাঁড়ায় না।অভিশাপ হোক!
তাদের বুকের ভেতর আগুন জ্বলুক,
যারা শিশুকে দেখে না আলোর প্রতিচ্ছবি,
বরং দেখে দানবীয় খেলনার মত।
জানি না কোন গ্রহে তাদের হৃদয়,
যেখানে কান্না পৌঁছায় না, পৌঁছায় না ব্যথা।তবে কি আজ শিশুরা আর নিরাপদ নয়?
তবে কি আমরা আর মানুষ হবো না?
এই প্রশ্নগুলো জ্বলে আমার হৃদয়ে,
জ্বলে প্রতিটি মায়ের নিঃশ্বাসে।যদি এ জাতির বিবেক না জাগে,
তবে অভিশাপ থাক এই সভ্যতার নামে,
যেখানে শিশুর হাসি ঠাঁই পায় না,
শুধু ঠাঁই পায় কবর আর বিচারহীনতা।চলো, গর্জে উঠি —
চলো, আগুন ধরাই এই নীরবতার দেয়ালে।
যে জাতি শিশুকে রক্ষা করতে পারে না,
তার গর্বে পতাকা উড়বে কীভাবে?

৩১.৯৩°সে