মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পরপর দুটি হিন্দু মন্দিরে চুরির ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের উদ্বেগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অবশেষে ধরা পড়ে যায় পেশাদার এক সংঘবদ্ধ চক্র। উদ্ধার করা হয় মন্দির থেকে চুরি হওয়া বিভিন্ন পূজার সামগ্রী।
পুলিশের একাধিক দিনের গোয়েন্দা কাজ, সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের মাধ্যমে এই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে বেরিয়ে আসে, এটি নিছক চুরি নয়—বেশ পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে দুটি মন্দির টার্গেট করে এই অপকর্ম সংঘটিত হয়েছিল।
বড়লেখা উপজেলার পাখিয়ালা ও দক্ষিণভাগ এলাকায় অবস্থিত দুটি মন্দির—‘শ্রী শ্রী উদ্ভব ঠাকুরের আখড়া মন্দির’ ও ‘দক্ষিণভাগ সার্বজনীন দেবস্থলী মন্দির’-এ এই চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় থানা পৃথক দুটি মামলা গ্রহণ করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে নেতৃত্ব দেন বড়লেখা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে দক্ষিণভাগ রেললাইন এলাকা থেকে রুহেল আহমদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও পাঁচজন—সাজু, নুর হোসেন, জাকির, আলাল ও শাহ আলীকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলীর ভাঙারির দোকানসহ একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় পূজায় ব্যবহৃত পিতলের ঘট, প্রদীপ, থালা, ঘণ্টা, কোষা, কলসি ইত্যাদি। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা পূর্বে চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।
এ ঘটনা স্থানীয় মন্দির কমিটি ও ধর্মপ্রাণ জনগণের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে তারা এই ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

২৫.২৬°সে