Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩১.৯৩°সে
শিরোনাম
বড়লেখায় আলোচনায় এ.বি সিদ্দিক দুলাল: তরুণদের আগ্রহ, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সংযোগ দক্ষিণভাগে জমিয়ত পরিবারের যৌথ আলোচনা সভা, সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থানে শাহাদাত বরণ করলেন হাদি ঢাকা-৮ এর এমপি পদপার্থী ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ, হাসপাতালে নাজুক অবস্থায় ভর্তি ১৮ জুলাই ফ্রি ইন্টারনেট ডে: সব মোবাইল গ্রাহক পাচ্ছেন এক জিবি ডাটা বিনামূল্যে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বজ্র প্রতিবাদ – মোঃ রাসেল আহমেদ নৃত্যের মঞ্চে লাশ – সহিংসতা ও নীরবতার বিরুদ্ধে এক সাহসী কবিতা দারিদ্রতা হার মানেনি সুব্রত, অসুস্থ শরীর নিয়েই এসএসসি-তে জিপিএ-৫ গোবিন্দগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযান: মাদক ও অস্ত্রসহ বাহাদুর গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের সুমনা আক্তার সুমি ৪৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে (মার্কেটিং বিভাগ) দ্বিতীয় স্হান অর্জন করেন

বড়লেখার মেধাবী শিক্ষার্থী সুমির অসাধারণ সাফল্য

বড়লেখা, মৌলভীবাজার |

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার কলাজুরা গ্রামের মেয়ে সুমনা আক্তার সুমি ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (মার্কেটিং) দ্বিতীয় হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শুরু করে নিজের অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই অর্জন নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মাধ্যমিক শিক্ষা কলাজুরা হাজী আপ্তাব মিয়া মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এরপর নারী শিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে বাণিজ্য বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে তিনি অনার্সে ৩.৮২ এবং মাস্টার্সে ৩.৯০ সিজিপিএ অর্জন করেন।

বিসিএস প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সুমি বলেন, “শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি আমি সময় বের করে নিজে থেকে পড়ালেখা করেছি। প্রস্তুতির শুরু থেকেই নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছি, নিয়মমাফিক চলেছি। আমার বাবা-মা, ভাইবোন এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সুমনার বাবা ইসমাইল আলী একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা করবুন নেছা গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সীমিত সম্পদের মধ্যেও তাদের পরিবার সবসময় শিক্ষার অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই সফলতা আল্লাহর অশেষ রহমত। আমার পরিবার, শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া এই পথ চলা সম্ভব হতো না। আমি কৃতজ্ঞ সবার প্রতি, যাঁরা এই পথচলায় পাশে ছিলেন।”

গ্রাম থেকে উঠে আসা মেয়ের এই অর্জন নিয়ে গর্বিত এলাকার মানুষও। গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামবাসির মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা বলছেন— “সুমি ছোটকাল থেকেই খুবই মেধাবী, সুমির এই অর্জন আমাদের অর্জন, সে শুধু বড়লেখার নয়, পুরো জেলার গর্ব।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সুমি বলেন,

আমি একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই, যিনি শুধু বই শেখান না, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য প্রস্তুত করেন। পাশাপাশি গবেষণা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে।

গ্রামের মেয়ে হয়ে শহরে টিকে থাকা ও সফলতা অর্জন—এটি কখনোই সহজ ছিল না তার জন্য।

সুমি বলেন,“শুরুটা ছোট জায়গা থেকে। শহরে এসে উচ্চশিক্ষা নেওয়া, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া সহজ ছিল না। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক বাধা—সবকিছুকে জয় করতে হয়েছে সাহস, ধৈর্য ও পরিশ্রম দিয়ে।”

সুমনা আক্তার সুমির এই অর্জন প্রমাণ করে, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতাকে জয় করা সম্ভব।

-দৈনিক বড়দিগন্ত

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

আজ ৩০ জুন আবেদনের শেষ সময় – দেখে নিন যেসব সরকারি চাকরির আবেদন এখনো করা যাবে

আরও খবর