মাত্র একটি ভুল ট্রেন স্টেশনে নেমে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে কুলাউড়ার এক কিশোরীকে। অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে, মায়ের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফেরার পথেই সে শিকার হয় ধর্ষণের, এমন অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট কার চালকের বিরুদ্ধে।
গত ৩০ জুন, মায়ের সঙ্গে সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফিরছিল ওই কিশোরী। তবে আসনবিহীন টিকিটে যাত্রা করে তারা। ট্রেনের ভিড়ের মধ্যে মা ও মেয়ে একে অপরকে হারিয়ে ফেলেন। বিভ্রান্তিতে কিশোরী কুলাউড়া রেলস্টেশনে নেমে পড়ে।
কোনো উপায় না পেয়ে সে পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখনই তার সঙ্গে দেখা হয় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গাড়িচালক আক্তার আলীর (২৮)। পরিচয়ের পর নিজেকে সহানুভূতিশীল দেখিয়ে আক্তার তাকে কমলগঞ্জ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু ঘৃণ্য চক্রান্তে জড়িয়ে তিনি কিশোরীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান সিলেট শহরের একটি আবাসিক হোটেলে। সেখানে নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর ফোন কেড়ে নিয়ে, ফোনে থাকা নম্বর থেকে ইমোতে পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে আক্তার। তিনি নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে দাবি করেন— কিশোরী তার হেফাজতে আছে। তাকে ফেরত পেতে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়।
পরিবার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় জানায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সোমবার (৮ জুলাই) রাতে সিলেটের কদমতলী এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত আক্তার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিপক দেওয়ান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আক্তার আলী তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাঁকে মঙ্গলবার মৌলভীবাজার আদালতে হাজির করা হয়েছে। এদিকে, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিশোরীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর রেলস্টেশন ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কিশোরী কিংবা নারীদের নিরাপদ যাত্রার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
-দৈনিক বড়দিগন্ত

১৬.৮৭°সে