মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২৩ জুন (রবিবার) ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর। একইসাথে, ইসরায়েলের আসডোদ শহরেও আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। পাল্টা জবাবে, ইসরায়েল তেহরান ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
▶️ কী ঘটেছিল গতকাল?
এর আগে ২২ জুন রাতে যুক্তরাষ্ট্র “Operation Midnight Hammer” নামক গোপন অভিযানে ইরানের ফার্দৌ, নাটাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। মার্কিন B-2 বোমারু বিমানে ‘বাঙ্কার–বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়, যার ফলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ধারণা।
▶️ আজকের পাল্টা প্রতিক্রিয়া:
আজ ইরান সরাসরি তিনটি ফ্রন্টে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়—
1. কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’-এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
2. ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত
3. ইসরায়েলের আসডোদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
তবে এইসব হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার আগাম সতর্কতা পায়, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
▶️ ইসরায়েলের জবাব:
ইসরায়েলও চুপ থাকেনি। দেশটি তেহরান ও আরও কিছু ইরানি শহরে সামরিক বিমান হামলা চালায়। তেহরান শহরে কালো ধোঁয়া ও আকাশে গোলাগুলির শব্দ ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায়। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি বিমানগুলো কৌশলে রাজধানী এলাকায় প্রবেশ করে।
▶️ পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি?
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশল হতে পারে, কিন্তু এমন পদক্ষেপে ইরান আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা যুদ্ধকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে, যা কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগজনক।
▶️ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
– জাতিসংঘ: শান্তি বজায় রাখার আহ্বান
– ইইউ ও ফ্রান্স: কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর
– কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব: আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ
– বিশ্ববাজারে প্রভাব: তেলের দাম বেড়েছে ৭%।

২৫.২৬°সে