আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুদ্ধের সূচনা ও বিস্তার
২০২৫ সালের ১৩ জুন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার সূচনা ঘটে, যখন ইসরায়েল “অপারেশন রাইজিং লায়ন” নামে একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে ইরান রেভ্যুলুশনারি গার্ড (IRGC)-এর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে সিরিয়া, লেবানন ও ইরাক সীমান্ত ঘেঁষে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতেও।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা: সত্য নাকি কৌশল?
২৩ জুন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে ঘোষণা দেন, “ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছে।”
তবে ইরান সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানায়, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, “যদি ইসরায়েল আজ ভোর ৪টার মধ্যে আক্রমণ বন্ধ করে, তবে ইরানও প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।”
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি—ইরান থেকে ছোঁড়া ড্রোন ও রকেট এখনো দক্ষিণ ইসরায়েলের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে আঘাত করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মধ্যস্থতা
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় সক্রিয়। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছে, “মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে।”
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। যদিও ইসরায়েল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিকভাবে তারা কিছুটা চাপে রয়েছে।
📊 যুদ্ধের প্রভাব: পরিসংখ্যান ও তথ্যচিত্র
বিষয় তথ্য (২৪ জুন ২০২৫ পর্যন্ত)
ইরানে হতাহত ১৮৭ নিহত, ৪২০ জন আহত
ইসরায়েলে হতাহত ৯৬ নিহত, ৩১২ জন আহত
ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক স্থাপনা ইরান: ১১টি, ইসরায়েল: ৭টি
শরণার্থী সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ লোক সীমান্ত ত্যাগ করেছে
তেলের দাম বৃদ্ধি প্রতি ব্যারেল $১৩২ ছাড়িয়েছে
—
📌 এখনকার বাস্তবতা
বর্তমানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও সীমান্ত এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছে। ইরান বলছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ বজায় রেখেছে। ইসরায়েল বলছে, তারা ‘প্রয়োজনে আরও বৃহৎ প্রতিক্রিয়া’ দেখাতে প্রস্তুত।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “এটা প্রকৃত যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সময় নেওয়ার কৌশল। পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।”
উপসংহার
দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তবে যুদ্ধ থামেনি। ইসরায়েল ও ইরান একে অপরকে এখনও হুমকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা না বাড়লে এই সংঘর্ষ আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে—এই যুদ্ধ থামে, নাকি জ্বলে ওঠে আরও বড় পরিসরে। – দৈনিক বড়দিগন্ত

২৫.২৬°সে