বড়দিগন্ত ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ (২৩ জুন) সন্ধ্যায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ার বেসে একযোগে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে দোহা আকাশে বিকট শব্দ ও বিস্ফোরণের ঝলকানি দেখা যায়।
কেন এই হামলা?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় গতকালের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। ২২ জুন মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা তেহরান সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে।
হামলার বিবরণ
‘অপারেশন ফাতাহ’জ ব্লেসিং’ নামে এই অভিযানে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। লক্ষ্য ছিল কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড ঘাঁটি আল-উদেইদ, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্য মিশনগুলো পরিচালনা করে।
প্রতিরক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।” এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
হামলার পরপরই কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ দূতাবাস তাদের কর্মীদের নিরাপদে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন জানায়, “ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
জনগণের আতঙ্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে আলোর ঝলকানি এবং বিস্ফোরণের শব্দে অনেক বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দোহা শহরের কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষণ:
এই ঘটনাকে বিশ্লেষকরা একটি বড় কূটনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। সরাসরি সংঘর্ষে না গেলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানির বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।

২৫.২৬°সে